Showing posts with label শিশুতোষ. Show all posts
Showing posts with label শিশুতোষ. Show all posts

পথশিশু নাকি পথকলি ?



শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলুন । কথাটা খুব জনপ্রিয় কিন্তু আমরা কি শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলতে পারি ? চিরন্তন সত্যি কথা হচ্ছে আমরা মুখে বলতে পারি কাজে এর কোন ফল নেই । এই তো সেই দিন আমি এবং আমার কিছু বন্ধু, রুবেল মেহেদি জাকির ঘুরতে সেন্ট-মার্টিন যাই । ওরা আমার আগে চটগ্রামে চলে যায়, তাই আমাকে পরের দিন যাওয়া লাগে । আমি যাবার মাধ্যম হিসাবে ট্রেন বেছে নিই । তাই সকালেই উওরা এয়ারপোর্ট ষ্টেশন এসে পৌঁছাই । বাংলা দেশের নিয়ম আনুসারে ট্রেন কখনোই যথা সময়ে পোঁছেনা। ওই দিনটাতেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। তাই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম ।

হঠাৎ দেখতে পাই কিছু শিশু কি যেন খুজে বেড়াচ্ছে। পরে বুঝতে পারলাম ওরা টোকাই । মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল তাদের জীর্ন কিন্তু হাসিমাখা মুখটি দেখে।আরো খারাপ লাগলো এই ভেবে যে,আমি গুরতে যাই আর এই শিশুগুলো একমুঠো অন্নের জন্য হন্ন হয়ে কাজ করছে, অথচ যখন ওদের বিদ্যালয়ে যাবার কথা ।
হঠাত ই ঘোরে থেকেই আমি তাদের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম । জানতে চাইলাম নাম কি, বাসা কোথায়, সারা দিন কীভাবে কাটে ? ওদের কথা গুলো শুনছি আর নিজের মধ্যে একধরনের অনূভুতি কাজ করতে লাগলো।

করুনা নয় খুব জগন্য মায়া হতে লাগলো। আর যেন আপন মনে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলাম।
এই সমাজটা যে এখনো কতটা অবহেলিত তা কল্পনা করা যায় না। তখন মনে হচ্ছিল ঘুরতে না গিয়ে ওকে সব গুলো টাকা দিয়ে দিই। কিন্তু বন্ধুদের সাথে যে কথা দিয়েছি।(এভাবেই হয়ত আমরা আমাদের সম্ভাবনা গুলোকে কিংবা আমাদের কর্তব্যগুলোকে মনের অজান্তে গলাটিপে হত্যা করি এক একটা কারন সামনে দাড় করিয়ে !) তবুও নিজে যা পেরেছি তাদেরকে সাহায্য করেছি । আমার সাথে একটা ডিজিটাল ক্যামেরা ছিল । ওরা খুব আগ্রহ নিয়ে সেটার দিকে তাকাচ্ছিল, তাদের দৃষ্টির ভাষা আমি বুঝতে পারলাম আর তাই ওদের কিছু ছবি তুলে দিলাম। দিলাম বলাটা ঠিক না বলা যায় নিলাম।

যখন ওদের কে দেখালাম তখন তাদের চোখে মুখে আনন্দের যে চিরসজীব এবং নির্মল হাসি দেখলাম বিশ্বাস করুন সেটা কোটি টাকা দিয়েও হয়ত পাওয়া সম্ভব হতনা। ওদেরকে যখন টাকা দিয়েছি তখনো এতটা খুশি হয়নি তারা। মনের অজান্তে ঐ শিশু গুলো আমাকে, আমার ভেথরের আমিকে নতুন করে শিখালো যে টাকাই সব কিছু নয়। এর পরের সময় গুলোতে শিশুগুলো সারাক্ষনই আমার সাথে ছিল ।

আমি ট্রেনের জানালা দিয়ে হাত নাড়ছি আর সেই অপ্রকাশিত কলিগুলো ও আমাকে বিদায় জানাচ্ছিল। আর কখনো হয়ত তাদের সাথে দেখা হবেনা।
হঠাত কোনো একদিন দেখবো আমার হাতের ব্যাগটা কেউ একজন ছিনিয়ে পালাচ্ছে সেই স্টেশন থেকে, বয়সের ভারে হয়ত তাঁর পিছু নিতে পারবোনা।। যাকে সেদিন ছিনতাই কারী বলব সেই কি নয় সেই শিশু গুলোর একজন ? হতেও ও তো পারে। কিসের অধিকার নিয়ে ধিক্কার দিবো? তাকে আমরা আমাদের এই সমাজ ই তো বাধ্য করেছি এই অবস্থায় আসতে। আজকের এই ছবিগুলো দেখালে হয়ত সে ফিরিয়ে দেবে ব্যাগটি কিন্তু আমি কি ফিরিয়ে দিতে পারবো তাঁর শৈশবের সেই প্রানবন্ত হাসি ? 

বিবেকের কাছে হেরে গেলাম ! সব পথ শিশু দের সাহায্য করার সামর্থ্য হয়ত আমাদের অনেকের নেই কিন্তু যে কোন একজনকে কিছুটা আলোর পথ দেখানোর সামর্থ্য আমাদের থাকাটা খুব বড় কোন চাপ নয়।
একজন না পারি আমরা দুই বা তিনজন বন্ধু মিলে যদি শপথ করি যে আমরা যে কোন একটি শিশুকে পড়ালেখা করাব তাহলে তা অসম্বব কিছু নয়। তাদের চাওয়া এর গ্রাফ টা সত্যি-ই খুব বেশী উঁচু নয়। আসুন প্রতিজ্ঞা করি।
বিবেকের কাঠগড়ায় আর আসামী হয়ে থাকাটা আমাদের কারোর-ই উচিত নয় ।

সেই ছবি গুলো যতবারি দেখি ততবারই মনের মধ্যে এক ধরনের দাগ কাটে । এখন একটাই চাওয়া শিশু দের জন্য কিছু একটা করা ।
ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য।
Continue Reading