খুনের মাতালতায়

কে জানতো সেইদিন 
পুলিশের শকুণী দৃষ্টি ছিল 
এক একটা তাজা প্রানের দিকে 
যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে ।
কে জানতো সে দিন 
রক্তাক্ত হবে শহর গ্রাম রাজপথ 
বাংলা ভাষার জন্য মাতূ ভাষার জন্য 
শায়িত হবে মায়ের সোনা মানিক -
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে বেড়াবে ।
আজও চিৎকার করে উঠে 
রমনার রক্তাত্ত ঘাস গুলো 
জালিমের দলেরা 
যারা হত্যা করেছে নির্বিচারে 
দেশের সেসব সন্তান দের 
খুনের মাতালতায় জন্মদানকারিনি মা-দের ।
যারা বেঁচে থাকার পোশাকে মৃত আত্তাকে ঢেকে,আজও কেঁদে উঠে সন্তান সন্তান বলে ......।।

Continue Reading

কামনা

কবর হয়েছে আমার পথের ধূলোয়
যে পথে হেঁটেছি বহুবার 
অপেক্ষার প্রহর গুনেছি 
একটু ছুঁয়ে দেবার আশায় 
কেটেছে কত রাত একাকি 
নিশিতের অন্ধকারে 
খুঁজে বেড়িয়েছি আমি 
দারুচিনি দ্বীপের ভেতর 
অথবা হরিণীর দলে 
শালিক, কোকিলের দেশে  
দুঃসহ অন্ধকারের বেদী ছিঁড়ে 
আমার এই অরণ্যে 
হাতটি ধরে বলবে আবার 
ভালবাসি, ভালবাসি তোমায়



Continue Reading

আমার ক্যামেরার ফ্রেম বন্ধি ।



ছবি তুলি শখের বসে তাই ভালো ছবি তোলা আমার কাজ না। আমার কাছে ছবি গুলো ভালো লাগলো তাই আমার ব্লগে আমার ভালো লাগা ছবি।

কোণ এক বই মেলায় বাংলা একাডেমির পাশে থেকে তোলা পাতা ঝরা সন্ধ্যায়



                             উপরের ছবি এবং এই ছবিটি একি জায়গা থেকে নেওয়া




ছবিটি তুলেছি চট্রগ্রামের ফয়েজ লেক থেকে 



নানুর বাড়িতে এক বৃষ্টি শেষে সন্ধ্যা বেলায় ছবিটি তুলেছি এবং নিচের ছবিগুলো গ্রামীর বাড়িতে  তোলা




Continue Reading

রাজনীতি-১

দূর্নিতী আর রাজনীতি 
আপন দুজন ভাই 
উন্নয়নের কথা হলে 
তাদের দেখা নাই । 
তারা নাকি আবার 
সমাজ সচেতন 
দেশের তরে 
থাকেন অচেতন।
Continue Reading

ক্লিষ্ট শিশু


পথের ধারে ক্লিষ্ট শিশু 
খুজচে কিছু আন্ন 
একটু খাবার জন্য তারা 
ঘুরচে হয়ে হনন।


তখন দেখি ঘুরছ তুমি 

পড়ে দামি পণ্য 
একটু খানি ভাবছ কি ভাই
সেই শিশুটির জন্য ?



Continue Reading

অনূভুতিহীন নই


এখন আর দেখতে পাই না
কাক ডাকা ভোর, অথবা গোধূলি সন্ধ্যা
দেখতে পাই না এখন আর
জ্যোৎস্না ভরা রাত ।
ভুলে যাচ্ছি সে মূহুর্তগুলো
যখন ভালবেসে ছিলাম তোমায়
আজ যান্ত্রিকতার কোলাহলে আমি
যেন কোন এক জ্যামে-চিরায়ত বন্দীশালায় ।
কোপাল কে আশ্রয় করে পড়েনা ঘাম শুধু
নিদ্রাহীনতার অবিরাম ঝর্ণাধারা।
এখন আমি ভালবাসা হীন
নিদারুণ সর্দার কিন্তু
অনূভুতিহীন নই !

Continue Reading

পথশিশু নাকি পথকলি ?



শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলুন । কথাটা খুব জনপ্রিয় কিন্তু আমরা কি শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলতে পারি ? চিরন্তন সত্যি কথা হচ্ছে আমরা মুখে বলতে পারি কাজে এর কোন ফল নেই । এই তো সেই দিন আমি এবং আমার কিছু বন্ধু, রুবেল মেহেদি জাকির ঘুরতে সেন্ট-মার্টিন যাই । ওরা আমার আগে চটগ্রামে চলে যায়, তাই আমাকে পরের দিন যাওয়া লাগে । আমি যাবার মাধ্যম হিসাবে ট্রেন বেছে নিই । তাই সকালেই উওরা এয়ারপোর্ট ষ্টেশন এসে পৌঁছাই । বাংলা দেশের নিয়ম আনুসারে ট্রেন কখনোই যথা সময়ে পোঁছেনা। ওই দিনটাতেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। তাই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম ।

হঠাৎ দেখতে পাই কিছু শিশু কি যেন খুজে বেড়াচ্ছে। পরে বুঝতে পারলাম ওরা টোকাই । মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল তাদের জীর্ন কিন্তু হাসিমাখা মুখটি দেখে।আরো খারাপ লাগলো এই ভেবে যে,আমি গুরতে যাই আর এই শিশুগুলো একমুঠো অন্নের জন্য হন্ন হয়ে কাজ করছে, অথচ যখন ওদের বিদ্যালয়ে যাবার কথা ।
হঠাত ই ঘোরে থেকেই আমি তাদের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম । জানতে চাইলাম নাম কি, বাসা কোথায়, সারা দিন কীভাবে কাটে ? ওদের কথা গুলো শুনছি আর নিজের মধ্যে একধরনের অনূভুতি কাজ করতে লাগলো।

করুনা নয় খুব জগন্য মায়া হতে লাগলো। আর যেন আপন মনে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলাম।
এই সমাজটা যে এখনো কতটা অবহেলিত তা কল্পনা করা যায় না। তখন মনে হচ্ছিল ঘুরতে না গিয়ে ওকে সব গুলো টাকা দিয়ে দিই। কিন্তু বন্ধুদের সাথে যে কথা দিয়েছি।(এভাবেই হয়ত আমরা আমাদের সম্ভাবনা গুলোকে কিংবা আমাদের কর্তব্যগুলোকে মনের অজান্তে গলাটিপে হত্যা করি এক একটা কারন সামনে দাড় করিয়ে !) তবুও নিজে যা পেরেছি তাদেরকে সাহায্য করেছি । আমার সাথে একটা ডিজিটাল ক্যামেরা ছিল । ওরা খুব আগ্রহ নিয়ে সেটার দিকে তাকাচ্ছিল, তাদের দৃষ্টির ভাষা আমি বুঝতে পারলাম আর তাই ওদের কিছু ছবি তুলে দিলাম। দিলাম বলাটা ঠিক না বলা যায় নিলাম।

যখন ওদের কে দেখালাম তখন তাদের চোখে মুখে আনন্দের যে চিরসজীব এবং নির্মল হাসি দেখলাম বিশ্বাস করুন সেটা কোটি টাকা দিয়েও হয়ত পাওয়া সম্ভব হতনা। ওদেরকে যখন টাকা দিয়েছি তখনো এতটা খুশি হয়নি তারা। মনের অজান্তে ঐ শিশু গুলো আমাকে, আমার ভেথরের আমিকে নতুন করে শিখালো যে টাকাই সব কিছু নয়। এর পরের সময় গুলোতে শিশুগুলো সারাক্ষনই আমার সাথে ছিল ।

আমি ট্রেনের জানালা দিয়ে হাত নাড়ছি আর সেই অপ্রকাশিত কলিগুলো ও আমাকে বিদায় জানাচ্ছিল। আর কখনো হয়ত তাদের সাথে দেখা হবেনা।
হঠাত কোনো একদিন দেখবো আমার হাতের ব্যাগটা কেউ একজন ছিনিয়ে পালাচ্ছে সেই স্টেশন থেকে, বয়সের ভারে হয়ত তাঁর পিছু নিতে পারবোনা।। যাকে সেদিন ছিনতাই কারী বলব সেই কি নয় সেই শিশু গুলোর একজন ? হতেও ও তো পারে। কিসের অধিকার নিয়ে ধিক্কার দিবো? তাকে আমরা আমাদের এই সমাজ ই তো বাধ্য করেছি এই অবস্থায় আসতে। আজকের এই ছবিগুলো দেখালে হয়ত সে ফিরিয়ে দেবে ব্যাগটি কিন্তু আমি কি ফিরিয়ে দিতে পারবো তাঁর শৈশবের সেই প্রানবন্ত হাসি ? 

বিবেকের কাছে হেরে গেলাম ! সব পথ শিশু দের সাহায্য করার সামর্থ্য হয়ত আমাদের অনেকের নেই কিন্তু যে কোন একজনকে কিছুটা আলোর পথ দেখানোর সামর্থ্য আমাদের থাকাটা খুব বড় কোন চাপ নয়।
একজন না পারি আমরা দুই বা তিনজন বন্ধু মিলে যদি শপথ করি যে আমরা যে কোন একটি শিশুকে পড়ালেখা করাব তাহলে তা অসম্বব কিছু নয়। তাদের চাওয়া এর গ্রাফ টা সত্যি-ই খুব বেশী উঁচু নয়। আসুন প্রতিজ্ঞা করি।
বিবেকের কাঠগড়ায় আর আসামী হয়ে থাকাটা আমাদের কারোর-ই উচিত নয় ।

সেই ছবি গুলো যতবারি দেখি ততবারই মনের মধ্যে এক ধরনের দাগ কাটে । এখন একটাই চাওয়া শিশু দের জন্য কিছু একটা করা ।
ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য।
Continue Reading