চেন্নাই ভ্যালোর হসপিটালা সিএমসি

সবাই সালাম গ্রহন করবেন । কেমন আছেন ? এক বড় ভাইয়্যা চেন্নাই সিএমসি হসপিটালে কিভাবে যাওয়া যায় তার ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলো। বলেছিলাম ! হটাত মনে হল চাইলে বিষয়টা নিয়ে লিখে রাখতে পারি কারো যদি উপকারে আসে ।

আমাদের মনের মধ্যে কিছু প্রশ্ন আছে আগে প্রশ্ন গুলো করে তার পরে উওর খুজবো। একেক মানুষের একেক ধরনের অসুস্থতা আবার একেক চাহিদা । সো আমি আমার অভিমত এবং হসপিটালের অবস্থা তুলে ধরবো বাকিটা আপনাদের ইচ্ছে ।

১। হসপিটালটা কেমন এবং কোথায় ?
২। চিকিৎসা ব্যাবস্থা কেমন ?
৩। কিভাবে এই হসপিটালে যেতে হয় ?
৪। খরচ কেমন , চিকিৎসা ব্যায় খুব বেশি ?
৫। কিভাবে চিকিৎসা নিতে হয় ?
৬। থাকা এবং খাওয়া ব্যাবস্থা কি ?
৭। ডাক্তারদের মান কেমন ?


মনের মধ্যে আরো হাজার রকমের প্রশ্ন আছে আমি হয়তো সকল প্রশ্নের উওর দিতে পারবো না কিন্তু কিছু মৌলিক প্রশ্নের সমাধান পাবেন ইনশাল্লাহ ।

হসপিটালটা কেমন বললে বলবো ভালো । হসপিটাল মানেই আমরা যা বুঝি তাই । কিন্তু এই হসপিটালটা দেখতে আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজের মত হলেও ঢাকা মেডিকেল থেকে বেশি পরিস্কার এবং অনেক বড় জায়গা জুড়ে। অনেক গুলো ভবন আছে এই হসপিটালে ।

মুলত এই হসপিটাল একটা ট্রাষ্টির আন্ডারে। এই হসপিটালটার পেছনে আছে আরেক গল্প । সে গল্প না হয় আন্য একদিন করা যাবে ।

হসপিটালটা ভারতের চেন্নাইতে অবস্থিত। চেন্নাই মানে চেন্নাই শহরে না । চেন্নাই শহর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে ভ্যালোর নামে একটা গ্রামে অবস্থিত । ভ্যালোর গ্রামটা বেশ পুরানো। আমরা অনেকেই  টিপু সুলতানের নাম শুনেছি এইখানে টিপু সুলতানের বাড়ি। যাই হোক মুলত এটি চেন্নাই ভ্যালুর অবস্থিত। এবং হসপিটালের নাম সিএমসি CMC ।



গুগোল ম্যাপে দেখতে পারেন হসপিটালের লোকেশন । সিএমসি হসপিটাল


চিকিৎসা ব্যাবস্থা নিয়ে আমার তেমন কোন খারাপ কিংবা ভালোমতামত নেই । এইখানে কে ডাক্তার আর কে ডকাক্তার না বুঝা যায় না। আমাদের দেশের ডাক্তারদের মত এপ্রন পরে সবাই ঘুরে না। আর এত কোয়ালিপিকেশন দেখি নাই নামের পাশে । তবে যা দেখেছি ডাক্তাররা সবার কথা শুনে। আপনি বাংলা বললেও বুঝে হিন্দি, ইংলিশ যাই বলেন। তবে এইখানকার সিস্টেম খুবি স্লো। বাংলাদেশের যেমন নিয়ম কানুন না মেনে সিরিয়ালে ঠুকা যায় এইখানে তা করা যায় না তবে অনেক স্লো। এই হসপিটালে দালাল নেই । তাই যারা দালালকে টাকা দেওয়া এবং নেওয়ার অভ্যাস আছে তাহলে তা পরিহার করে আসুন ।

এইবার চলুন কিভাবে এই হসপিটালে যাবেন। আপনি বাংলাদেশ থেকে দুই ভাবে যেতে পারবেন একটা হচ্ছে এয়ার অন্যাটা হচ্ছে ট্রেন । বলে রাখা ভালো আমি এয়ারি গিয়েছি তাই ট্রেনের সব গুলো বিষয় জানা নেই তবুও সহযোগিতা করবো।

যদি এয়ারে যান তাহলে আপনি সরাসরি ঢাকা থেকে চেন্নাই যেতে পারবেন আরেকটা কাজ করতে পারেন কলকাতা থেকে চেন্নাই । তাও যেতে পারেন । ঢাকা থেকে চেন্নাই যাওয়ার জন্য যদি এয়ার নির্বাচন করেন তাহলে চেষ্টা করবেন যাওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে টিকেট কেটে রাখার। তাহলে খরচ কম হবে ।
খরচ বাড়ানো কমানোর দায়িত্ব আপনার আমার না :P ।

যদি ট্রেনে যেতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে কলকাতা যেতে হবে কলকাতা থেকে চেন্নাই এভেল এভেল ট্রেন আছে। ভারতে ট্রেনের ব্যাবস্থা খুব ভালো। কলকাতা থেকে ট্রেনে করে চেন্নাই যেতে আপনার সময় লাগবে ৪০ থেকে ৪৫ ঘন্টা অনেকটা দুই দিনের মত। আপনাকে প্রথমে চেন্নাই আসতে হবে। চেন্নাই থেকে বাস যোগে অথবা ট্রেন যোগে ভ্যালুর যেতে হবে। চেন্নাই থেকে বাসে ভ্যালুর যাওয়াই ভালো আমি মনে করি ।

বলে রাখা ভালো রবিবার ভারতের সরকারি ছুটি তাই হসপিটালের বাহিরের কার্যকম বন্ধ থাকে তাই রবিবার কে মাথা রেখে কাজ করবেন। 

 এই অংশে বলবো খরচের বিষয়ে এই হসপিটালে যাওয়া আসায় এবং থাকায় যে খরচ চিকিৎসা খরচ তারচেয়ে কম মনে হয় । হসপিটালে ডাক্তারের ফি খুব বেশি না আর যে খুব যে কম তাও বলবো না। রোগ আর রোগের ধরন বুঝে খরছ, আপনার অসুস্থতা যদি বেশি হয় বেশি টেস্টের ধরকার হয় তাহলে বেশি টেস্ট করবে আর বেশি টেস্ট করলে বেশি খরচ হবে। তবে তুলনা মুলক কম আছে বলে আমার মনে হয় ।

এই হসপিটালের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রথমে আপনি যখন যাবেন এদের সিস্টেম হয়তো আপনার কাছে খুব বিরক্ত লাগবে। কেননা আপনি হাসপাতালে যেই দিন যাবেন সেই দিনই চিকিৎসা নিতে পারবেন না। কেননা প্রথমে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। অনেকে অনলাইনে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে থাকে তবে তা কাজে আসে না। কেননা আমরা করতে গিয়ে ছোট খাটো ধরা খেয়েছি। যাই হোক এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য আলেদা একটা বিল্ডিং আছে। মনে রাখবেন সবসময় যে কোন সাহায্যের জন্য ওখানকার গার্ডদের বলবেন ওরা সাহায্য করবে। চেস্টা করবেন হিন্দি কিংবা ইংলিশ বলতে। যেখানে
নিচের ছবির বিল্ডিং আপনি এপয়েন্টমেন্ট পাবেন ।




গুগোল ম্যাপ দেখতে লিংকে ক্লিক করুন ।  অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্লিডিং



এপয়েন্টমেন্ট নিতে গেলে অবশ্যই পাসপোর্ট নিয়ে যাবেন আপনি যেখানে উঠেছে সেখানকার এড্রেস, মোবাইল নাম্বার নিয়ে যাবে। সাথে পাসপোর্ট সাইজের ছবি সাথে রাখবেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সময় কিছু কাগজ পত্র সাথে নিয়ে যাবেন । পাসপোর্টের এবং ন্যাশেনাল আইডির ফটোকবি ছবি ।  
এপয়নেটমেন্ট ডেট নিতে হলে কিছু কিছু সমস্যা হয় যেমন ডাক্তারের সিরিয়াল, আপনাকে বুঝাইতে হবে আপনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন আপনার অবস্থা সিরিয়াস, একটু আর্লি যেন এপয়েন্টমেন্ট দেয়। এইখানে জেনারেল এবং প্রাইভেট আছে প্রাইভেট এবং জেনারের দুই ডাক্তার সেইম । আর্লি মনে করলে প্রাইভেট দেখাতে পারেন । খুব গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে ক্যাশ কার্ড প্রথম যেদিন এপয়েন্টমেন্ট নিবেন সেই দিনই তারা হয়তো বলবে ক্যাশকার্ড লাগবে কিনা । আপনি নিয়ে নিতে পারেন ।

ক্যাশ কার্ডের সুবিদা হচ্ছে আপনি এই কার্ডে টাকা ঠুকায় রাখবেন টাকা পকেটে নিয়ে ঘুরতে হবে না । ডাক্তার দেখাবেন টাকা লাগবে এই কার্ড দিলেই তারা কেটে রাখবে । কত খরছ হচ্ছে আরপনি দেখতে পাবেন । আবার যখন দেশে চলে আসবেন তখন আপনার টাকা আপনাকে ফেরত দিয়ে দিবে।

আপনি কোন ডাক্তার দেখাবেন তা আপনি বলার কিছু নাই তারাই বলে দিবে। আর ওদের খুব জিজ্ঞাস করতেও হয় না যদি আপনি বুদ্ধিমান হন । কখন কোথায় যেতে হবে তা লিখা থাকে কাগজে মানে হচ্ছে আপনি যখন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবেন তখন আপনাকে একটা কাগজ দিবে । সেই কাগজে লিখা থাকবে আপনার এপয়েন্টমেন্ট কবে কখন এবং কোথায় যেতে হবে।

ওপিডি নামে একটা বিল্ডিং আচ্ছে যেখানে বেশিরভাগ রুগিদের যেতে হয়। 
আরো একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে পুলিশের ভ্যারিপিকেশন ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার পরে আপনাকে পুলিশের কাছ থেকে পাস কার্ড নিতে হবে । সেই কাজটা নিয়ে আপনাকে খুব চিন্তা করতে হবে না। আপনি যে বাসায় উঠবেন সেই বাসা কিংবা হোটেলের দায়িত্বরত লোকেরা আপনাকে বলে দিবে কিভাবে কি করতে হবে। বিশেষ করে তারা একটা সি ফরম পুরন করে দিবে সাথে মেডিকেল ডোকমেন্ট দিয়ে । সেই সব গুলো হসপিটালের কাছে থানা আছে সেখানে গিয়ে জমা দিলেই তারা একটা কার্ড দিবে। এই কাজটা করতে হয়।

বাকি কথা গুলোর জন্য একটু অপক্ষা করুন। ধন্যবাদ




No comments:

Post a Comment